
আব্দুস সামাদ শৈলকুপা ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী নিরব আহমেদ হত্যার বিচার ও গ্রেফতারকৃত ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় না এনে উল্টো আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের গ্রেফতার করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার ঝিনাইদহ শহরের পায়রাচত্তরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা বলেন, গত ৭ মার্চ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাম্প কর্মচারীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্য নিরব আহমেদ নিহত হন। এ ঘটনার পর রাতে শহরে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং তেল পাম্পে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও তেল পাম্প ভাঙচুরের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে ডিবি পুলিশ সোমবার রাত প্রায় ২টার দিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া নেতারা হলেন—ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাশদীদ হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হোসেন অন্তর, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সদস্য ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির এবং রাসেল হুসাইন।
প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় আটক নেতারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা থানায় ওসি’র সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রশাসন দাবি করছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু সেই ফুটেজ এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। তারা দ্রুত সেই ফুটেজ প্রকাশ এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
মানববন্ধনটি পরিচালনা করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও সাবেক ছাত্রনেতা মেহেদী হাসান রাজু। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র মজলিসের জেলা সভাপতি উসামা হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাধীন আহমেদ, ছাত্রনেতা এইচ এম নাঈম মাহমুদসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, নিরব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না করে প্রশাসন নাটকীয়তা সৃষ্টি করছে। তারা অভিযোগ করেন, অতীতের মতো রাতের আধারে শহরের বিভিন্ন মেসে তল্লাশি চালিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত নিরব হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং গ্রেফতারকৃত ছাত্রনেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলেও তারা জানান।